Others / Literature

 

 

.............................................................................................................................

 

 

 

Magazine of Alumni reunion  at our Institute campus on 2004

 

 

ভলবো ট্রাক ও কিছু স্মৃতি

(১৯৮৩ সালের মার্চ মাসের ঘটনা । একটি অনাকাংখিত ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঐদিন রাতের অন্ধকারে তৎকালিন BDR   ও অন্যান্য বাহিনি আমাদের কলেজের ছাত্রদের উপর ঝাপিয়ে পরে । ১৫/১৬ জন ছাত্রকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলে এবং গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় । হোষ্টেলের সকল কক্ষে লুটপাট ও ভাংচুর চালায় । টাকাপয়সা , কাপড়, ঘড়ি, ক্যাসেট প্লেয়ার ইত্যাদী  কোন কিছুই বাদ রাখেনি । যা ১৯৭১ এর বর্বরতাকেও হার মানায় । ঐ রাতে  ছাত্ররা  FIDC colony  ও বনে জংগলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল । তখন এরশাদের সামরিক শাসন  চলছিল দেশের সকল পত্রিকায় ঐ ঘটনার প্রতিবাদ ছাপা হয় । ঐ ঘটনার প্রতিবাদে দেশের সকল পলিটেকনিক ধর্মঘট ও বিক্ষপে ফেটে পড়ে । বগুড়া পলিটেকনিকের ছাত্ররা  ক্ষিপ্ত হয়ে এরশাদের গাড়ীতে পাথর নিক্ষেপ করে । ঐ ঘটনার নেপথ্য নায়ক , তৎকালিন কাপ্তাই এর  BM (Brigade Major )  ছিলেন বতর্কিত সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ । ইতিহাসের কি করুন পরীনতি !!  জেনারেল মইন ইউ আহমেদ ও BDR  উভয়-ই   ইতিহাসের আস্তাকুরে নিক্ষিপ্ত হয়েছে । কথায় বলে পাপ বাপ-কেও ছাড়েনা । BDR নিজেরাই  নিজেদেরকে রক্তাক্ত করেছে, লুটপাট  করেছে । আর জেনারেল মইন এর জন্য অপেক্ষা করছে হাতকড়া ।  নিচের লেখাটিতে কলেজের ঐ  ঘটনারই একটি অংশের বাস্তব অভিজ্ঞতার বর্ননা দেওয়া হয়েছে। -------ওয়েব সম্পাদক -অপু,ব্যাচ-১৬  )

 

ঘুট ঘুটে অন্ধকার, চারিদিকে ছাত্রদের দৌড়া-দৌড়ি, অল্প একটু আগেই চিৎকার করে কেউ একজন বলল ইলেকট্রিকেল মেইন সুইচ বন্ধ করে দাও। ব্যাস্ মুহুর্ত মধ্যেই পুরো ক্যাম্পাস এলাকা ঘুট ঘুটে  অন্ধকার হয়ে গেল।ভলবো ট্রাক নিয়ে আমরা কয়জন (মানিক, আলম, জসিম, শওকত, ইলিয়াছ, মিজান) গেইটের ভিতরে ঢুকার পর, কলেজের মেইন গেইট বন্ধ করে দেওয়া হলো। সেনাবাহিনী ও বিডিআর এর যৌথ অপারেশন, অবশ্য আন অফিসিয়াল, অবশ্য এখানে পূর্বাপর অনেক কথাই আসে কিন্তু সময়ের দীর্ঘ পরিক্রমায় ১৩, ১৪, ১৫ এবঙং ১৬ ব্যাচের ছাত্রদের যারা হোস্টেলে ছিল তাদের স্মুতিতে সেই ভয়ানক দুঃস্বপ্নময় রাতটি আজীবন তাড়া করে যাবে।

সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা হতে আমরা হোস্টেলে বসে টিভি দেখছিলাম হঠাৎ খবর এলো আমাদের এক ছাত্র সম্ভবত মানিকের সাথে বিডিআর এর এক জোয়ানের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারি হয়, সবাই ধর ধর বলে কাঠ, বাঁশ, যে যা পেয়েছে তাই নিয়ে ছুটছে। কলেজের ট্রাক গেছে বাজার আনতে। ছেলেরা ট্রাকে ইট, পাটকেল, বোঝাই করে ড্রাইভারকে বললো লগগেইটে যেতে। ইতিমধ্যে বিডিআর ও আর্মি সংগঠিত হয়ে চেইন, হকি ষ্টিক নিয়ে ৬০/৭০ জনের একটা গ্রুপ ছাত্রদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

পিছু হঠা ছাড়া উপায় নাই। পুরো এলাকা জুড়ে এক পৈশাচিক তান্ডব, সাধারণ মানুষরাও রেহাই পায়নি। পথে পথে যাকে পাচ্ছে তাকেই পেটাচ্ছে। সিদ্ধান্ত হলো, সবাইকে সংগঠিত করে শত্র মোকাবেলা করতে হবে।

আমরা তখন লগগেইট বাজারের মাঝামাঝি জায়গায়, ড্রাইভার ভলবো ট্রাক ফেলে দৌড়ে একদিকে চলে গেল অবস্থা বেগতিক দেখে আমি ড্রাইভার হয়ে গেরাম। ট্রাক ঘুরিয়ে কলেজর দিকে ছুট, যে যেদিকে পারল লাফিয়ে ট্রাকে ঠল। এক পর্যায়ে লম্বা বাঁশ নিয়ে কয়েকজন বিডিআর জোয়ান ট্রাকের উপর চড়াও হ ট্রাক থামানোর জন্য নির্দে দিল কে শুনে তাদের কথা। ওরা যখন বুঝতে পারল আমি তাদের কথা শুনব না, তখন হাতের লম্বা বাঁশ দিয়ে বিডিআর জোয়ান সবাইকে পিটানো শুরু করল। যা হউক ভলভো ডিজাইনের কারণ বাঁশের আঘাত সরাসরি Wind Shield এ লাগল না এব আমি বেপরোয়া। গাড়ি তাদের গায়ের উপর তুলে দিচ্ছি দেখে বিডিআর রা লাফদিয়ে সরে গেল। আমরা কোন রকমে ১ম যাত্রায় বেচেঁ গেলাম। ট্রাক নিয়ে কলেজের দিকে রওনা দিলাম। ট্রাক নিয়ে ভিতরে ঢুকার পর গেইট বন্ধ করে দেওয়হল।

চারিদিকে অন্ধকার চিৎকার চেচামিচি। ইতিমধ্যে বিডিআর এর লোকজনও দেয়ল টপকে ভিতরে ঢুকে গেছে। হাতে হকি ষ্টিক, চেইন, বাঁশের লাঠি সামনে যাকে পাচ্ছে পেটাচ্ছে, তাদের লক্ষ্য হোস্টেল। ইলেকট্রিক ওয়অর্কসপের পেছনে

Earthing এর গর্তটা অন্ধকারে বোঝার উপায় নেই।  তাছাড়া গাড়ীর হেডলাইটের আলোও নেই। অন্ধাকারে গাড়ি নিয়ে Earthing এর গর্তটার উপর একচাকা ফেলে দিলাম। যা হোক চাকা বড় ছিল। গাড়ির গতি ছিল বলে গাড়ি ডিগবাজি খেতে খেতে বেঁচে গেল এবং ৫/৬ জন ছেলে নিশ্চিত মৃত্যু থেকে বেঁচে গেল কোন রকমে গাড়ি নিয়ে পূর্ব ড্রেনের পাশে গেলাম এবং লাফিয়ে নেমে কাট তারের বেড়া ডিঙ্গিয়ে এফআইডিসি এর দিকে ছুট। সেদিন বিডিআর এর তান্ডবে ১৬ জন ছাত্রের অবস্থা মারাত্মক এবং আরো অনেকে আহত হয়েছিল। সেই দূঃসহ স্মুতি আজও আমাদের তাড়া করে। এখনো মাঝে মাঝে শুনি ‘‘ট্রাকের ড্রাইভারকে ধর’’।

 

প্রদীপ কুমার নাথ

১৪ তম ব্যাচ

ইলেক্ট্রিক্যাল।

 

 

 

 

স্মৃতির পাতা থেকে

 

                               এসবিআইটি কিভাবে বিএসপিআই হলো

                                                      

এসবিআইটি  কিভাবে  বিএসপিআই হলো  তার একটু ধারনা না দিলে আমার লিখা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ছাত্র হিসাবে ভাল না হলেও নেতার সারিতে মোটামুটি ভালো ছিলাম বৈকি। বিদায়ী পরীক্ষার আগ পর্যন্ত কাপ্তাই থানাতে ছিলাম। কলেজের সাধারণ ছাত্রদরে ধর্মঘট ও জোড় প্রতিবাদের কারণে শেষ পর্যন্ত থানা থেকে মুক্তি পাই। কলেজের শেষ সেমিষ্টার ফাইনাল এ হঠা আমদের এক ছাত্র  পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্রের উপরে কাপ্তাই পলিটেকনিক লেখা দেখে পরীক্ষা বর্জন করে। এর প্রতিবাদে আমরা পরবর্তী পরীক্ষা গুলো বর্জন করি এবং প্রশাসনকে চাপের মধ্যে রেখে দাবি না মানা পর্যন্ত ঘেরাও করে রাখি।

কালীন অধ্যক্ষ রেজাউল করিম সাহেব পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসনকে একত্রিত করে মুক্তি লাভের ব্যবস্থা করেন কিন্তু পরে বিশ্বাসঘাতকতা করে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এবং কলেজ অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন। পরে রাত্রি ৯ টার পর সবাইকে হোস্টেল ত্যাগ করতে বাধ্য করান।

ঢাকাতে আমরা শিক্ষা ভবন আব্দুল গনি রোডে এসে সবাই একত্রিত হই এবং পরবর্তীতে ঢাকা পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটে মিটিং করি। সমস্ত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে একত্রিভূত করার জন্য বাকাছাপকে নিজেদের সমস্যার কথা তলে ধরি। পরে বাকা-ছাপের নেতৃবৃন্দ কাপ্তাই এসে কলেজ প্রশাসনকে বাধ্য করান আমাদের দাবী অনুযায়ী এসবিআইটি থাকবে, কাপ্তাই পলিটেকনিক হবে না।

চাপের মুখে নত হয়ে কলেজ প্রশাসন হোস্টেল খুলে দেন এবং রীতিমত ক্লাশ আরম্ভ করান। কিন্তু পরবর্তীতে আবারও এসবিআইটি কে বাদ দিয়ে বিএসপিআই তে পরিবর্তন করান। তথন আমাদের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ। কাপ্তাই থেকেও বিদায় নিয়েছি। তাই আমাদের ১২তম ব্যাচই ছিল সর্বপ্রথম বিএসপিআই সার্টিফিকেটধারী ব্যাচ।

আজ প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের এই পুনর্মিলন যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও উসাহে সম্ভব হয়েছে। তাদের প্রতি রইল আমার আন্তরিক মোবারকবাদ।

 

আল্লাহ হাফেজ।

 

মোহাম্মদ ইসমাইল                                                                (আংশিক সংকলিত)

১২তম ব্যাচ

অটোমোবাইল টেকনোলজী।



স্মৃতি চারণ

 

সেই কবে সুইডিশ থেকে বের হয়েছি। তবুও মনে হয়, এই যেন সেদিনের কথা। শওকত, সেলিম, প্রদীপ ও আমি মিলে আমরা যখন রুমমেট হিসেবে যাত্রা শুরু করি, বেশ মাতিয়ে উঠেই প্রথম সেমিস্টারের শেষ দিকে সেলিম ঘোষনা দিল, চলে যাচ্ছি আমেরিকা, তোমরা দোয়া করো। সেই যে গেল এখনও আছে এবং বেশ ভালই আছে। বর্তমানে একটা কম্পিউটার স্কুলের শিক্ষক। চার রুমমেটের একজন চলে যাওয়ায় শূন্যস্থান পূরণকরতে গিয়ে এলো শোয়াইব, শওকত আর আমি ম্যাকানিকেলের ছাত্র, প্রদীপ ও শোয়াইব ইলেকট্রিক্যালের। আমাদের কম্বিনেশনটা খুব ভালো ম্যাচ করেছিল । আমরা চারজন বছর শেষে রুম পাল্টিয়েছি ঠিক, তবে ফাইনাল সেমিষ্টার শেষে সুইডিশ থেকে বিদায়ের আগ পর্যন্ত রুমমেট পাল্টাইনি। ১৪ তম ব্যাচ কেন সুইডিশ ছাত্রবাসের ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত সত্যিই বিরল। আজ আমদের মাঝে শোয়াইব নেই। শান্তি প্রিয় মানুষটি আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেছে দিরদিনের জন্য ।

আমাদের সময়ে যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে আমরা বেড়ে উঠেছি তা এক কথায় অপূর্ব্ পারিবারিক সম্পর্কের মতো আমাদের সম্পর্কটা সত্যিকার অর্থেই ছিল একটা মডেল। স্যাররা বাবা বা বড় ভাইয়ের মত আমাদেরকে স্নেহের ছায়ায় আগলে রেখেছেন। বড় ভাইযেরা ছোটদের আদর করেছেন। আর ছোটরা বড়দের যতার্থ সম্মান করেছে। এখানে কোন কৃত্রিমতা ছিল না, একটিা স্বভাবজাত নিয়মেই চলেছে সবকিছু। আমরা যারা ১৪তম ব্যাচের ছাত্র, বিশেষ করে যারা হোস্টেলে ছিলাম আমরা বড় ভাইদের স্নেহ পেয়েছি, স্যারদের ভালবাসায় সিক্ত হয়েছি আর ছোটদের অকৃত্রিম শ্রদ্ধায় আপ্লূত হয়েছি। ভুলতে চাইলেও যা ভোলা যাবে না কোনদিন।

সুইডিশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছিল মনে রাখার মত। মনে পড়ে সিজেনিং চেম্বার, কলেজ উদ্যান, বিশাল খেলার মাঠ এবং সর্বোপরি কলেজ বিল্ডিং আর হোস্টেলের কথা। এমন আকর্ষনীয় ডিজাইনে সবকিছু সাজানো যা প্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই। এমন মনোমুগ্ধকর পরিবেশে খুব একটা চোখে পড়ে না। দারুন এক ভাললাগা অনুভুতি মনে পড়ে কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দেয়াল পত্রিকা প্রকাশনার কথা, ইনডোর ও আউটডোর গেমসে প্রতিযোগীতার কথা আমাদের ব্যাচের অনেকেই ইন্টার পাশ করে সুইডিশের ছাত্র হয়েছিল। ফলে প্রায় সকলেই ম্যাচুরড ছিল। শানুর কথা মনের পড়ে, হানিফ সংকেতের পরে যে সুইডিশ মাতিয়ে রেখেছিল।  এক সাথে আমরা নাটক করেছি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেছি, ম্যাগাজিন বের করেছি, সাহিত্য চর্চা করেছি, তার রবিন্দ্র সঙ্গীতের গলা খুব ভাল ছিল। এখন চর্চা আছে কিনা জানিনে। আশিষ দত্ত ভালো আধুনিক গান গাইতো। রুপক ও মনোপ্রিয় আমার খুব ভালো সহকারী ছিল, তাদের নিয়ে দেয়াল পত্রিকা বের করতাম। বেশ সৃজনশীল ছিল। আমার সাহিত্যের গুরু সেলিম। একদিন আকে একটা কবিতা লিখে দেখাই, মন্তব্য করতে গিয়ে সে লিখেছিল ‘কবিতা লিখে যাও’ সেই যে শুরু অনেক কাল অভ্যাস ছিল, এখন লেখাটা তেমন হয়ে উঠে না আর। কামাল আর আশিষ সেন দোদুলের একটা ঘটনা উল্লেখ না করলেই নয়। কামালের মাথায় চুল কম। টাক মাথায় চুল গজাতে হলে চূল ফেলে দিতে হবে, এমন টিপস কোথাও হয়তো পেয়েছে সে-ইচ্ছে চুল ফেলে দেবে। সবকিছু ঠিক ঠাক গন্ডগোল অন্য জায়গায়। নেড়ে হয়ে গেলে ছেলেরা তোআর শান্তি দেবে না ফন্দি বের করলো সবাই মিলে চুল ফেলে দেবে। যেই ভাবা সেই কাজ। আশিষ সেন থেকে শুরু করে প্রায় এগাজনের মত সে যাত্রায় চুল ফেলে দিয়েছিল। সবার শেষে নেড়ে মাথা হয় কামাল। মূল কারণ প্রকাশিত হয় পরে। তখন তো কাজ শেষ।

ইনডোর গেমসে আমীর ছিল প্রায় সব খেলায় পারদর্শী। নানা  দিদার ছিল আমার পার্টনার। ফাস্ট ইয়ারে আমি আর আমীর পার্টনার হয়ে পরবর্তীতে খেলা জমানোর জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। ক্যারাম, টেবিল টেনিস, বাডমিন্টন, ব্রিজ প্রায় প্রত্যেকটাতেই আমীর  এনডি পার্টনার নয়তো আমি আর নানা চ্যাম্পিয়ন কিংবা রানার্সআপ। ফুটবলে ছিলাম ম্যানেজার। ফাইনালে অটোমোবাইলের কাছে হেরে গিয়ে ম্যাকানিকেলের সে কি কান্না, যেন অনেক কিছু হারিয়ে ফেলেছি। টেবিল টেনিসে বাবু ভাই‘র (রেজাউল করিম বাবু) কথা ভুলবো না কোনদিন। সার্ভিসেই পয়েন্ট নিতেন তিনি। একবার বাইরে থেকে কে যেন এসেছিলেন খেলতে, সে ভদ্রলে্কও দারুণ খেলতেন, তাঁকেও নাকানি চুবানি খাইয়ে ছেড়েছিলেন। এভাবে অনেক অনেক কথা জমে আছে যা বলে ফুরানো যাবে না।

আমাদের সময়ে যারা পড়াতেন, হাসান স্যার, খুরশিদ স্যার, আইউব আলী স্যার,  জববার স্যার, মুজিবুর রহমান স্যারসহ সকলেই, কারো কথাই ভুলে যাবার নয়। আসলে তখন আন্তরিকতা ছিল প্রচুর। আমরা যখন থার্ড ইয়ারে, নতুন স্যার জয়েন করেছিলেন ক‘জন। মোস্তাক ভাই আমাদের কলেজ থেকে বের হয়েই আমাদের কলেজে জয়েন করেন। কৃষ্ণধন স্যার ও মোহাম্মদ হোসেন স্যারের কথা মনে পড়ে। কৃষ্ণধন স্যার যথেষ্ট জ্ঞানী ছিলেন, পড়াতে জানতেন এবং সেইভাবে পড়াতেনও। আমরা মোহাম্মদ হোসেন স্যারের বিরুদ্ধে নালিশ করি। তিনি আমাদের যা পড়াতেন হুবহু সেইভাবে মুখস্ত করতে হতো। চাইলেই ইচ্ছে অনুযায়ী নিজরে মত করে লিখা যেত না। আমাদের নালিশ শুনে প্রিন্সিপাল স্যার (এমদাদ স্যার) এস সমাধান করে যান। এভাবে আমরা নিজেদের ছেলেমানুষিতে কষ্টও দিয়েছি আমাদের অনেক প্রিয় স্যারদের। আজ মনে পড়ে এমনি ছোট খাট বিচ্ছিন্ন সব ঘটনার কথা।

স্কুল জীবনে স্কাউটিং কছছি। সেই সুবাদে রোভার। স্যারদের অনুপ্রেরণায় নেতৃত্ব দিয়েছি, আমাদের হাতেই রোভার জন্মলাভ করে সুইডিশে। শেষকালে চাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলাম, সে অনেক কথা। এগুলি না বললেও হতো, বলছি এজন্য যে সুইডিশ আমাদের জ্ঞানে আলোয় দিক নির্দেশনা দিয়েছে। আমরা অনেক, অনেক কিছু পেয়েছি। শিক্ষা জীবন শেষ হয়েছে এখানেই, শিকষা অর্জন শেষ হয়নি।

আজ স্মুতিচারণ করতে গিয়ে মনে পড়ে শ্রদ্ধয় জাহাঙ্গীর স্যার, গোলাপ, মোতাহার, ও শোয়াইবের কথা। আমরা সর্বান্ত করনে তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আল্লাহ্ যেন তাঁদের দান করেন জান্নাতে শান্তির পরশ।

 

 

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান

প্রকৌশলী,এশিয়অ ফ্যান

১৪ তম ব্যাচ

যন্ত্রকৌশল।